বাংলাদেশের উন্নয়নে পর্যটনশিল্প গার্মেন্টস খাত থেকেও অনেক বেশি ভুমিকা রাখতে পারে। - আব্দুল মূয়ীদ চৌধুরী

facebook Share on Facebook
rajbari

বাংলাদেশের উন্নয়নে পর্যটনশিল্প গার্মেন্টস খাত থেকেও অনেক বেশি ভুমিকা রাখতে পারে। 

- আব্দুল মূয়ীদ চৌধুরী
...........................................................................................................

বাংলাদেশের উন্নয়নে পর্যটন খাত গার্মেন্টস থেকেও অনেক বেশি ভুমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সরকারের প্রাক্তন সচিব এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আব্দুল মূয়ীদ চৌধুরী। তিনি মনে করেন এক্ষেত্রে ব্যাপক কর্মসংস্থানসহ স্থানীয় পর্যায়ে অর্থনীতির চাকাও সচল হবে। উন্নত হবে অবকাঠামো এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা যা দেশের সার্বিক চালচিত্রই বদলে দিতে সক্ষম। Address Bangladesh (অ্যাড্রেস বাংলাদেশ)এর সঙ্গে এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের বিশাল সম্ভাবনা এবং করণীয় বিষয়ে কথা বলেন জনাব চৌধুরী।

সম্ভাবনার নানান দিক

শুধু বৈদেশিক পর্যটকই নয়, সার্বিক অবস্থার উন্নতি হলে দেশী পর্যটকদের থেকেই প্রতিবছর সরকার বিরাট অংকের রেভিনিউ পেতে পারে। যে কোনো শিল্পের সঙ্গে অন্য অনেক শিল্প জড়িত থাকে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প বিকাশ লাভ করলে এর পাশাপাশি আরো অনেক শিল্পই বিকষিত হবে বিশেষকরে পরিবহন, খাদ্য ও পানীয়, সেবাদান, ট্রেনিং এবং হ্যান্ডিক্রাফট প্রভৃতি। এর প্রভাব হবে খুবই ইতিবাচক কারন এর মাধ্যমে বিভিন্ন সেক্টরে বিপুল কর্মসংস্থানও হবে। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়ভাবে সহায়ক সার্ভিস এবং অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের প্রসার ঘটবে। বাংলাদেশে পর্যটনের সকল অনুষঙ্গই বর্তমান। নদী, সাগর, পাহাড়, অরণ্যসহ বাংলাদেশে আর্কিওলজিক্যাল ট্যুরিজম, ওশান ক্রুজ, আইল্যান্ড ট্যুর, ওয়াইল্ড লাইভ অবজার্ভেশন, বার্ড ওয়াচিংসহ নানা মাত্রিক পর্যটনের ক্ষেত্র রয়েছে। অর্থ্যাৎ পর্যটনের জন্য সকল ক্ষেত্রই বাংলাদেশে বর্তমান। আর বাংলাদেশের আবহাওয়া প্রায় সারা বছরই পর্যটন অনুকুল যা দেশের ছয়টি ঋতুতে বিভিন্ন রকম সৌন্দর্য নিয়ে উদ্ভূত হয়। এখানে শীত এবং গ্রীষ্ম কোনোটিই অসহনীয় পর্যায়ে যায় না যা পৃথিবীর খুব কম দেশেই রয়েছে বলে উল্লেখ করেন উন্নয়ন সংস্থা ব্রাকের প্রাক্তন নির্বাহী পরিচালক মুয়ীদ টোধুরী।

বাংলাদেশের পর্যটনের বিভিন্ন খাতে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। পর্যটন শিল্প গুরুত্ব পেলে আমাদের বিভিন্ন ঐতিহ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে সেগুলো সুরক্ষিত তো হবেই সাথে সাথে সরকারি আয়ের উৎস হিসেবেও এগুলো ভুমিকা রাখবে। আমাদের বিভিন্ন স্থানে প্রাসাদ-প্যালেসসহ নানান দর্শনীয় স্থান রয়েছে। আমাদের রয়েছে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার মতো তিনটি বিশাল নদী যা আর পৃথিবীতে কোন দেশে নেই। পাহাড়, সমুদ্র এবং আইল্যান্ড নিয়ে বৃহত্তর চট্টগ্রাম হতে পারে বিশেষ পর্যটন এলাকা। বাংলাদেশের দক্ষিণে সুন্দরবন পৃথিবীর একমাত্র বিশাল ম্যানগ্রোফ বনাঞ্চল এবং যেখানে রয়েছে পৃথিবী বিখ্যাত রয়াল বেঙ্গল টাইগারের বিচরণ। সুন্দরবন ইতোমধ্যে পৃথিবীর ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তবে সুন্দরবনে প্রতিবছরে পর্যটনের সংখ্যা নির্ধারণ করে দিতে হবে নইলে এটি পরিবেশগত ভারসাম্য হারাতে পারে বলে মন্তব্য করেন জনাব চৌধূরী।

বাংলাদেশের পর্যটন এরিয়া 

বাংলাদেশের নানামাত্রিক পর্যটন ক্ষেত্র রয়েছে। এমনকি বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবন, আদিবাসী জীবন ইত্যাদিও পর্যটকদের জন্য আকর্ষণের কেন্দ্র হতে পারে। প্রকৃতি ভ্রমণ, ভূ-তাত্ত্বিক সাইট দর্শন, নদী ভ্রমণ, হাওর এলাকা ভ্রমণ, পাহার ও সমুদ্র ভ্রমণ, সুন্দরবন ভ্রমণ, বিভিন্ন প্রাসাদ ও রাজবাড়ি, চা-বাগান ও অন্যান্য অরণ্য ভ্রমণ(লাউয়াছড়া ইত্যাদি)সহ বহুরকম ভ্রমণের সুযোগ বাংলাদেশে রয়েছে। জনাব চৌধূরী মনে করেন সে অর্থে সমগ্র বাংলাদেশই একটি পর্যটনের বিষয়।

পর্যটন শিল্পের বিকাশে যা করতে হবে 

পর্যটন খাতকে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প থেকেও বড় শিল্পখাতে পরিণত করা সম্ভব কিছু পদক্ষেপের মাধ্যমে। সবচে সম্ভাবনার দিক হচ্ছে প্রাকৃতিকভাবেই বাংলাদেশ এই অপার সম্ভাবনাময় যেখানে এই ক্ষেত্রটি নতুন করে তৈরি করার প্রয়োজন নেই। শুধু কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমেই এর বিকাশ লাভ সম্ভব।

১৯৯৯ সালে পর্যটনকে শিল্পখাত হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০০০সাল থেকে বাংলাদেশে মোটামুটি পর্যটন সেক্টরে কাজ শুরু হয়। কিন্তু সরকারের সব ক্ষেত্রে আর্থিক সঙ্গতি না থাকায় অনেক কিছু করা সরকারের পক্ষে সম্ভবও নয়। ফলে এখানে বেসরকারি খাতকেও সমান ভূমিকা পালন করতে হবে। অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করলেই এখানে গতিশীলতা আসবে এবং দ্রুত সেক্টরটি বিকষিত হবে। ইতোমধ্যে বেসরকারি খাতে কিছু উঁচুমানের রিসোর্ট হোটেল অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে সামগ্রিক ভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও এই শিল্প ষক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে। আর অবকাঠামোসহ অন্যান্য সুবধাধি নিশ্চিত হলে এক্ষেত্রে প্রচুর বিদেশী বিনিয়োগর সম্ভাবনা রয়েছে।

অবকাঠামোগত সুবিধাসহ সরকারকে এক্ষেত্রে গার্মেন্টস এবং আইটি সেক্টরের মতো শুল্ক সুবিধা প্রদান করতে হবে যাতে পর্যটন সংস্থাগুলো কমদামে গাড়ীসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আমদানী করতে পারে। এছাড়াও বিভিন্ন ইনসেনটিভ দিতে হবে যাতে উদ্যোক্তারা আগ্রহী হয়। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির জন্য সরকারি বেসরকারি খাতে ট্রেনিং ইনস্টিটিউট করতে হবে। এমনকি স্থানীয় পর্যটনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে ছোট ছোট ট্রেনিং সেস্টার এর ব্যবস্থা করতে হবে। প্রফেশনাল তৈরির জন্য শিক্ষা-কারিকুলাম, শিক্ষার্থীদের ধারণা প্রদানের জন্য সাধারণ পাঠক্রমসহ গ্যাস বিদ্যুৎ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা হতে হবে সার্বক্ষণিক এবং মানসম্পন্ন। আর যেটি সবচে বড় বিষয় সেটি হলো সরকার এবং বেসরকারি সেক্টরকে পর্যটন সেক্টর নিয়ে একসঙ্গে পরিকল্পনার মাধ্যমে এগুতে হবে এবং একে বাংলাদেশের অন্যকম প্রধান অর্থনৈতিক খাত বলে চিহ্নিত করতে হবে। একটি কথা মনে রাখতে হবে যে গার্মেন্টস খাত চিরন্তন নয় এবং এখানে নানা সমস্যাও উদ্ভুত হয়। এছাড়া অন্য কিছু দেশের এবং বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয়। পযর্টন সেক্টরে সে-ই অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি অনেক কম। আরেকটি বিশেষদিক হচ্ছে অন্যান্য যে কোনো শিল্পেই কমবেশি পরিবেশ দূষনের ঝুঁকি রয়েছে যা এক্ষেত্রে নেই। পর্যটন শিল্প বরং পরিবেশ রক্ষায়ই কাজ করবে। 

আমাদের একটি প্রবণতা রয়েছে যে সরকার করে দেবে। এই প্রবণতা থেকে বেড়িয়ে বেসরকারি সেকটর তথা ব্যক্তিগত উদ্যোগে যতটুকু করা সম্ভব সেটুকুও করা জরুরী। কারণ একথা মনে রাখতে হবে যে সরকারেরও সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আর সরকারকেও সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। সুতরাং সামগ্রীকভাবে পর্যটন খাতকে উন্নয়নের অন্যতম খাতে নিতে হবে সরকারি-বেসরকারি উভয় খাতকেই উদ্যোগ গ্রহণ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে।

ব্রান্ডিং পর্যটন ও বাংলাদেশ    

মিডিয়ার দুনিয়ায় সবকিছুরই প্রচারণা এবং ব্রান্ডিং এর প্রয়োজন রয়েছে। সেজন্য বাংলাদেশকে খুব শক্তিশালী ভূমিকা পালন করেতে হবে মনে করেন মূয়ীদ চৌধুরী। পর্যটনের ব্রান্ডিং বাংলাদেশ তথা অন্যান্য সেক্টরকেও পরিচিত করবে বহিঃবিশ্বের কাছে। সেজন্য অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে বিখ্যাত সব মিডিয়ার মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে হবে। এ কাজটি সরকারকেই করতে হবে। সাথে সাথে পৃথিবী জুড়ে যে সকল পর্যটন মেলা হয় তাতে সরকারি-বেসরকারি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রেও সরকারকে সাবসিডি দিতে হবে। বিভিন্ন প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে প্রকৃত ব্যবসায়ীরাই যেন সুযোগটি পায়।

ব্রান্ডিং এর জন্য বিদেশে বাংলদেশী দূতাবাসগুলোকে কাজে লাগাতে হবে। তাদের একটি রুটিন ওয়ার্ক হতে পারে বাংলাদেশে পর্যটনের জন্য বিদেশীদের উদ্বুদ্ধ করা। দূতাবাসে একটি সুন্দর পোস্টার সেটে রাখলেই ব্রান্ডিং হবে না। বিদেশীদের মাঝে প্রচার করতে হবে, কেন বাংলাদেশ পর্যটনে আলাদা সেটিও উপস্থাপন করতে হবে। বিদেশী ট্যুরিস্ট রাইটারদের নিয়মিত আমন্ত্রণ জানানো এবং তাদের ফ্রি ভিজিট এর ব্যবস্তা করতে হবে। অন্যান্য দেশের ট্যুরিজম বোর্ডের সাথে যৌথভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করেও প্রচার চালানো যেতে পারে। সাথে সাথে ভিসা ও ভ্রমণ সহজতর করতে হবে। অন অ্যারাইভাল ভিসা এবং খুব সহজ ও বন্ধুত্ব ভাবপন্ন সহযোগীতার মনোভাব প্রদর্শন করতে হবে বিদেশী পর্যটকদের প্রতি। বাংলাদেশের প্রতি বিদেশীদের আগ্রহ তৈরি করতে হবে। মনে রাখতে হবে যে বেশি বেশি পর্যটক যদি এদেশে ভ্রমণ করে তাহলে বাংলাদেশের সঙ্গে বিদেশের ব্যবসার সম্ভাবনাও অনেক বাড়বে। বাড়বে একত্রে কাজ করার সুযোগ। এ সকল সম্ভাব্য ব্রান্ডিং এর বিষয় নিয়েও জনাব চৌধুরী পরামর্শ প্রদান করেন।

.....................................................

অ্যাড্রেসবাংলাদেশ (Address Bangladesh) একটিসোস্যালমিডিয়াপ্লাটফর্ম।এখানেআছেBangladesh -net">সোস্যালনেটওয়ার্কিংওব্লগ , ই-লার্নিং,  এবংনিউজওইন্টারভিউ।এরমূলউদ্দেশ্যহলো - সোস্যালনেটওয়ার্কভিত্তিকবাংলাদেশেরউন্নয়নবিষয়কআলোচনারএকটিপ্লাটফর্মতৈরিকরা।এখানেআপনিBangladesh -social-network">ProfileBangladesh -social-network">বন্ধু, ব্লগতৈরীকরতেপারেন। 

 

 

Tea Garden
More Articles By This Author
Feature

বাংলাদেশের উন্নয়নে পর্যটনশিল্প গার্মেন্টস খাত থেকেও অনেক বেশি ভুমিকা রাখতে...

বাংলাদেশের উন্নয়নে পর্যটনশিল্প গার্মেন্টস খাত থেকেও অনেক বেশি ভুমিকা রাখতে পারে। - আব্দুল মূয়ীদ চৌধুরী........................................................................................................... বাংলাদেশের উন্নয়নে পর্যটন খাত...

বিকল্প শক্তির উৎস সন্ধানে

শক্তিই হচ্ছে মানব সভ্যতার প্রধান চালক। মানুষ শক্তির মাধ্যমেই মূলতঃ উৎপাদন করে থাকে। সকল কাজের মূল চালিকা শক্তি...

'Top 10 globally inspiring Bangladeshis'

A list of top 10 inspirational Bangladeshis around the world has been published at the British Parliament Commonwealth Room....

আমেরিকায় বিস্ময়কর ট্রেনের উদ্ভাবক এক বাংলাদেশী বিজ্ঞানী

  ট্রেনের কথা শুনলেই ভেসে উঠে লোহালক্কড়, রেললাইন, বগি। কিন্তু আমেরিকায় বসবাসরত একজন বাংলাদেশী  বিজ্ঞানী ড. আতাউল করিম প্রমাণ করেছেন...

মধ্যযুগের বিশ্বখ্যাত আরবীয় শিক্ষাবিদ ও গবেষক আল বিরুনি

  আবু রায়হান আল বিরুনি বা আবু রায়হান মোহাম্মদ ইবনে আহমদ আল বিরুনি (৯৭৩- ১০৪৮), ছিলেন মধ্যযুগের বিশ্বখ্যাত...

আলোর ফেরিওয়ালা: একজন পলান সরকার

রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলার গ্রামের লোকেরা সকালে ঘুম ভেঙে দেখতে পায়, তাদের আঙিনায় একটি হাস্যোজ্জ্বল মুখ।দাঁড়িয়ে আছেন পলান...
Prev123Next