ঢাকা- চট্রগ্রাম মহাসড়ক ঠিক না হওয়ায় আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়ায় বড় ব্যাঘাত ঘটছে।

Bangladesh Net,  Bangla blog Share on Facebook
Bangladesh Net,  Bangla blog
dhaka-chittagong road

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজটি হাতে নেয়া হয় ২০১০ সালে। শেষ হবার কথা ছিল ২০১৩ সালে। নির্ধারিত সময়ের দেড় বছর পরেও ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়নি। ফলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষেত্রে ব্যবহৃত সবচে গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়কটি ব্যবহারে একটি সময় যেমন বেশি লাগছে, সাথে খরচও বাড়ছে। নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সকল ধরণের পণ্যের সরবরাহ প্রক্রিয়ায়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন এর প্রথম যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম এর সঙ্গে সাক্ষাৎকার। 

প্রশ্ন : বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া ঢাকামুখি পন্য পরিবহনে সড়কপথের ওপর নির্ভরতা কতটুকু ?

উত্তর : চট্রগ্রাম বন্দর দিয়ে কনটেইনারে আমদানি পণ্যের অন্তত ৭০ শতাংশই চট্রগ্রামের বাইরে যায় । এসব পণ্য ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চলের। এসব পণ্য আমদানিকারকদের কারখানা বা গুদামে পৌছে দেওয়ার জন্য এখনো বড় মাধ্যম সড়কপথ। রেলপথে চট্রগ্রাম থেকে ঢাকায় কনটেইনার পরিবহন এখানো ৫ শতাংশের কম। নৌপথে খাদ্যশস্যের বড় অংশ এবং সিমেন্টশিল্পের কাচামাল পরিবহন করা হয়।  

প্রশ্ন : সড়কপথে পণ্য পরিবহনে কী কী সমস্যা মোকাবিলা করতে হয় ? 

উত্তর: ঢাকা- চট্রগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত হওয়ার কাজ এখনো শেষ হয়নি। মহাসড়কের অবস্থা এখন নাজুক । এর খেসারত দিতে হচ্ছে আমদানিকারকদের। আবার অনেক ক্ষেত্রে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরাও খেসারত দিচ্ছে। সড়কপথের নাজুক অবস্থার কারণে আগে চট্রগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চলে পণ্য পরিবহনে যেখানে ১০-১২ ঘন্ট সময় লাগত, এখন সেখানে সময় লাগছে ১৬-১৭ ঘন্টা। চট্রগাম থেকে ঢাকায় কাভার্ড ভ্যানে পণ্য পরিবহনের ভাড়া ১৫-২০ হাজার থেকে এখন ৩৫ হাজার টাকা হয়েছে। অর্থাৎ সময়ও খরচ দুটোই বেশি। এর পরও নৌপথ ও রেলপথে কনটেনারের পণ্য পরিবহনের সুযোগ সুবিধা বেশি না থাকায় সড়কপথে পণ্য পরিবহন করতে হচ্ছে। 

প্রশ্ন: মহাসড়কের নাজুক অবস্থার কারণে করা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন? 

উত্তর: বন্দর থেকে ঢাকামুখি পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পোশাকশিল্পের কাঁচামাল। পোশাকশিল্পের কাচামাল কারখানায় পৌছাতে দেরি হলে রপ্তানিকারকেরাই বিপদে পড়েন। কারণ পেশাকশিল্পের পণ্য নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তৈরী করে রপ্তানি করতে হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন শিল্পের কাচামাল বাণিজ্যিক পণ্যও খাদ্যশস্যেও একটি অংশ পরিবহন করা হয় এই মহাসড়ক ব্যাবহার করে। পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ বেশি হলে প্রথমে ভুক্তভোগী হন আমদানীকারকেরা। পরে পণ্যের খরচে সঙ্গে যুক্ত হয়ে ভোক্তাদের ওপর চাপ পড়ে। আসলে এই মহাসড়কের কারণে সবচেয়ে বড় ব্যাঘাত হচ্ছে আমদানি- রপ্তানি প্রক্রিয়ায়। যেমন: বন্দও দিয়ে পণ্য আমদানিকারকেরা কারখানা বা গুদামে পৌছে দেওয়া পর্যন্ত কয়েক ধাপে। কাজ হয়। এসব ধাপের মধ্যে কোনোটিতে প্রভাব পড়লে পুরো প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে।

প্রশ্ন: মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত হলেই এসব সমস্যা দূর হবে ?

উত্তর : পণ্য পরিবহন যেভাবে বাড়ছে, তাতে মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত হলে হয়তো কিছুদিন পণ্য পরিবহনে সুবিধা পাওয়া যাবে। চার লেন হলে পণ্য পরিবহনে সময় ও অর্থেও সাশ্রয় হবে। কারণ একটি কাভার্ড ভ্যান যেখানে মাসে এখন  সাত- আটবার আসা –যাওয়া করছে তখন ১২-১৪ বার আসা যাওয়া করতে পারবে। ফলে পণ্য পরিবহনের গাড়ির পর্যাপ্ততা বাড়বে। আমদানিকারকেরা যখন- তখন পন্য পরিবহনের জন্য পর্যান্ত গাড়ি পাবেন। তবে বন্দরে এখন বছরে ১০ শতাংশ হারে কনটেইনার পরিবহন বাড়ছে। ফলে ঢাকামুখী পণ্য পরিবহনের হারও বাড়ছে। এটি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে চার লেনেও কাজ হবে না তখন এইমহাসড়ক সম্প্রসারণের বিকল্প থাকবে না।                                


কৃতজ্ঞতা: মাসুদ মিলাদ, প্রথম আলো


More Articles By This Author
Related Articles
Feature

বাংলাদেশের উন্নয়নে পর্যটনশিল্প গার্মেন্টস খাত থেকেও অনেক বেশি ভুমিকা রাখতে...

বাংলাদেশের উন্নয়নে পর্যটনশিল্প গার্মেন্টস খাত থেকেও অনেক বেশি ভুমিকা রাখতে পারে। - আব্দুল মূয়ীদ চৌধুরী........................................................................................................... বাংলাদেশের উন্নয়নে পর্যটন খাত...

বিকল্প শক্তির উৎস সন্ধানে

শক্তিই হচ্ছে মানব সভ্যতার প্রধান চালক। মানুষ শক্তির মাধ্যমেই মূলতঃ উৎপাদন করে থাকে। সকল কাজের মূল চালিকা শক্তি...

'Top 10 globally inspiring Bangladeshis'

A list of top 10 inspirational Bangladeshis around the world has been published at the British Parliament Commonwealth Room....

আমেরিকায় বিস্ময়কর ট্রেনের উদ্ভাবক এক বাংলাদেশী বিজ্ঞানী

  ট্রেনের কথা শুনলেই ভেসে উঠে লোহালক্কড়, রেললাইন, বগি। কিন্তু আমেরিকায় বসবাসরত একজন বাংলাদেশী  বিজ্ঞানী ড. আতাউল করিম প্রমাণ করেছেন...

মধ্যযুগের বিশ্বখ্যাত আরবীয় শিক্ষাবিদ ও গবেষক আল বিরুনি

  আবু রায়হান আল বিরুনি বা আবু রায়হান মোহাম্মদ ইবনে আহমদ আল বিরুনি (৯৭৩- ১০৪৮), ছিলেন মধ্যযুগের বিশ্বখ্যাত...

আলোর ফেরিওয়ালা: একজন পলান সরকার

রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলার গ্রামের লোকেরা সকালে ঘুম ভেঙে দেখতে পায়, তাদের আঙিনায় একটি হাস্যোজ্জ্বল মুখ।দাঁড়িয়ে আছেন পলান...
Prev123Next