ঢাকা- চট্রগ্রাম মহাসড়ককে অগ্রাধিকারমূলক কাজের তালিকার শীর্ষে নিয়ে আসতে হবে ।

Bangladesh Net,  Bangla blog Share on Facebook
Bangladesh Net,  Bangla blog
ঢাকা-চট্টগ্রাম রোড

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজটি হাতে নেয়া হয় ২০১০ সালে। শেষ হবার কথা ছিল ২০১৩ সালে। নির্ধারিত সময়ের দেড় বছর পরেও ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়নি। ফলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষেত্রে ব্যবহৃত সবচে গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়কটি ব্যবহারে একটি সময় যেমন বেশি লাগছে, সাথে খরচও বাড়ছে। নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সকল ধরণের পণ্যের সরবরাহ প্রক্রিয়ায়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমই)এর সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এর সঙ্গে সাক্ষাৎকার।

প্রশ্ন : ঢাকা- চট্রগ্রাম মহাসড়কের বর্তমান অবস্থা রপ্তানি কার্যক্রমে কতটা সহায়ক ? 

উত্তর : আমাদের রপ্তানি বাড়ছে। বিশ্ববাজারে আগমী দিনে চাহিদা যেমন বাড়বে, তেমনি বাড়বে আমাদের রপ্তানি । দুরভগ্যজনক হলেও সত্য যে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ এই মহাসড়কটি রপ্তানিমুখি যোগাযোগের চাপ সামলাতে পারছে না। আর তা পারছে না দুটো কারণে । প্রথম চার বছর ধরে কাজ চললেও এই মহাসড়কটির ১৯২ কিলোমিটার চার লেনে উন্নীত করা যায়নি। কাজ চললেও তা ধীর গতিতে। দ্বিতীয়ত , বিদ্রমান মহাসড়কটিও যথাযথভাবে রক্ষনাবেক্ষন করা হচ্ছে না। অনেক স্থানই ভঙাচোরা । ফলে রপ্তানিমুখি পণ্যবাহী ট্রাক, নারায়ণগঞ্জ বা গাজীপুর থেকে চট্রগ্রাম বন্দও পর্যন্ত যেতে অনেক সময় লাগছে। এতে খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

প্রশ্ন : বড়তি সময় ও খরচের বিষয়টি একটু ব্যাখ্যা করে বলুন। 

উত্তর : তৈরী পোশাক রপ্তানির জন্য সাধারণত কাভার্ড ভ্যান ব্যাবহার করা হয়। তিন চার বছর আগেও আমরা প্রতি ট্রাক বা কভার্ড ভানের জন্য গড়ে সাত থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া গুনতাম। এখন সেই ভাড়া ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে গেছে। পরিবহণ ব্যয় ভিবিন্ন কারণে প্রতিবছরই কিছু বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এই মহাসড়কে পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত সময় লাগার জন্য ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের মালিকেরা ভাড়াও বাড়িয়ে দিয়েছেন। আট থেকে ১০ ঘন্টা পথ যদি ১৫ থেকে ২০ ঘন্টা লেগে যায়। তাহলে বাড়তি ভাড়া গুনতেই হবে। আবার নিদিষ্ট সময়ে বন্দরে পৌছাতে না পারলে নির্ধারিত জাহাজ ধরাও সম্বভ হয় না। সে ক্ষেত্রে পরবর্তী জাহাজের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। তাতে বাড়তি মাশুল দিতে হয়। অনেকআবার বাধ্য হয়ে পণ্যবাহী ট্রাক ঢাকায় ফিরিয়ে এনে বিমানে তুলে দেন। এতে খরচ কয়েক গুণ বাড়ে। যদি আমরা এফওবি ভিত্তিতে পণ্য রপ্তানি করি , তাহলে জাহাজীকরণে কোনো খরচ নেই । তবে সিঅ্যান্ডএফ ভিত্তিতে করলে প্রতি কনটেইনারের জন্য গড়ে দুই হাজার ডলার বা দেড় লাখ টাকার কিছু বেশি ভাড়া দিতে হয়।একই পরিমাণ পণ্য বিমানের কর্গোতে তুললে ২০ লাখ টাকা ব্যয় হয়। 

প্রশ্ন : তাহলে এখন করণীয় কি ? 

উত্তর : আমরা মনে করি সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কাজের তালিকার শীর্ষে নিয়ে আসতে হবে ঢাকা- চট্রগ্রাম মহাসড়ককে চার লেনে রূপান্তরকে। যোগাযোগমন্তী চেষ্টা করেছেন। তার সক্রিয়তায় আমরা বেশ আশাবাদী। তবে সরকারের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আরও ভালোভাবে কাজ করতে হবে । প্রথমেই বলেছি যে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পন্যের বিশেষত তৈরী পোশাকে চাহিদা আরও বাড়বে। কাজেই আমাদেও রপ্তানি বাড়বে।এ জন্য উৎপাদন বাড়তে হবে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও স্থিতিশীল আছে। তার মানে নতুন বিনিয়োগ আসবে। পোশাক খাতের সাময়িক যে শ্রমিক অস্থিরতা, সেটাও কেটে যাবে । ফলে ব্যবসা ও উৎপাদনের অনুকুল পরিবেশ দেখা দেবে। এই সুযোগের সদ্ব্যবহারের জন্য অবকাঠামোর সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

 কৃতজ্ঞতা: আসজাদুল কিবরিয়া, প্রথম আলো


More Articles By This Author
Related Articles
Feature

বাংলাদেশের উন্নয়নে পর্যটনশিল্প গার্মেন্টস খাত থেকেও অনেক বেশি ভুমিকা রাখতে...

বাংলাদেশের উন্নয়নে পর্যটনশিল্প গার্মেন্টস খাত থেকেও অনেক বেশি ভুমিকা রাখতে পারে। - আব্দুল মূয়ীদ চৌধুরী........................................................................................................... বাংলাদেশের উন্নয়নে পর্যটন খাত...

বিকল্প শক্তির উৎস সন্ধানে

শক্তিই হচ্ছে মানব সভ্যতার প্রধান চালক। মানুষ শক্তির মাধ্যমেই মূলতঃ উৎপাদন করে থাকে। সকল কাজের মূল চালিকা শক্তি...

'Top 10 globally inspiring Bangladeshis'

A list of top 10 inspirational Bangladeshis around the world has been published at the British Parliament Commonwealth Room....

আমেরিকায় বিস্ময়কর ট্রেনের উদ্ভাবক এক বাংলাদেশী বিজ্ঞানী

  ট্রেনের কথা শুনলেই ভেসে উঠে লোহালক্কড়, রেললাইন, বগি। কিন্তু আমেরিকায় বসবাসরত একজন বাংলাদেশী  বিজ্ঞানী ড. আতাউল করিম প্রমাণ করেছেন...

মধ্যযুগের বিশ্বখ্যাত আরবীয় শিক্ষাবিদ ও গবেষক আল বিরুনি

  আবু রায়হান আল বিরুনি বা আবু রায়হান মোহাম্মদ ইবনে আহমদ আল বিরুনি (৯৭৩- ১০৪৮), ছিলেন মধ্যযুগের বিশ্বখ্যাত...

আলোর ফেরিওয়ালা: একজন পলান সরকার

রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলার গ্রামের লোকেরা সকালে ঘুম ভেঙে দেখতে পায়, তাদের আঙিনায় একটি হাস্যোজ্জ্বল মুখ।দাঁড়িয়ে আছেন পলান...
Prev123Next